দুঃসময়ের সময় থেকে

শফিক ঝুমার জন্য বাস স্ট্যান্ড এ দাঁড়িয়ে আছে। বানানী বাস স্ট্যান্ড। ঝুমা পলাশী থেকে বাসে উঠবে। সেই বাস বনানী হয়ে উত্তরা যাবে। শফিক সেই বাসে উঠবে। উঠে যদি ঝুমার পাশে সিট ফাঁকা থাকে তাহলে বসবে নাইলে দাঁড়িয়ে থাকবো।

 

শফিক বনানী দাঁড়িয়ে আছি, একটার পর একটা বাস চলে যায় তবুও ঝুমার বাস আসে না। মিনিটের পর মিনিট পেরিয়ে যায়। একসময় ঘন্টাও পেরিয়ে যায়।

 

এক্টুপরে ঝুমার ফোন আসে। ওর বাস কাছাকাছি এসেছে। শফিক টিকেট কেটে বাসের দিকে এগিয়ে যায়। খুব সাবধানে, কারন একই কোম্পানির কয়েকটি বাস একবারে আসে। খুব অল্প সময়ে তাকে বের করতে হবে কোন বাসে ঝুমা আছে এবং সেই বাসেই উঠতে হবে।

 

কখনো বাসে উঠে ঝুমার পাশে সিট পেয়েছে, কখনো পায়নি। কখনো ভিড় ঠেলে ওর কাছেও যেতে পারেনি। আবার কখনো তাড়াহুড়া করে ভুল বাসে উঠে গিয়েছে। কিন্ত বাস থেকে নেমে এক সাথেই রিক্সা করে বাসায় ফিরেছে।

 

আর বাসায় ফিরে কি দেখতো?

 

কিছু গম্ভীর মুখ আর রাজ্যের হতাশা। সেসব পাশ কাটিয়ে রুম পর্যন্ত পৌছে ফ্রেস হয়ে যখন খেতে যেত তখন দেখতো তাদের জন্য ভাত আছে, কিন্ত তরকারি নেই। কারন তারা তো রান্না করতে পারেনি। সারা দিন চাকরি করেছে, বাইরে থেকেছে, কিন্ত খেতে হলে তো নিজেকে রান্না করতে হবে।

 

এক দিন না, দুদিন না, দিনের পর দিন এই হতে থাকলো। নিজের বাসায়, নিজের আপনজনের সাথে। কখনো কি ভুলতে পারবে সেই সময়ের কথা? সারাদিন অফিসে কাজ করে, সন্ধ্যার ঘন্টাখানেক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে বাসায় ফিরে দেখলো তাদের জন্য খাবার নেই, খেতে হলে রান্না করে খেতে হবে।