কুয়াকাটা

Kuakata Tour

Posted by Reaz Rahman on Friday, February 1, 2008

মার্চ ২০০৭

কুয়ায়াটা যাবো ঠিক করলাম। কুয়াকাটার ব্যাপারে সবার মন্তব্য হলো, খুব সুন্দর জায়গা, কিন্তু যাওয়া আসা অনেক কষ্টের।

কুয়াকাটা বাসে যাওয়া যায়, লঞ্চে যাওয়া যায়, আবার দুটো মিলিয়ে যাওয়া যায়। আমরা ঠিক করলাম আমরা যাবো ষ্টীমারে আর আসবো বাসে।

ষ্টীমারের টিকেট কেটে বৃহস্পতি বার বিকেলে সদরঘাট থেকে বি আর টি এ এর ষ্টীমারে করে রওনা দিলাম। স্টিমার বিকেলে ছেড়ে সারা রাত চলে সকালে বরিশালে থামে।

সকালে বরিশাল লঞ্চ ঘাটে নেমে, নাস্তা করে কুয়াকাটার উদ্দেশ্য বাসে উঠলাম। দূরত্ত ৮০ কিলোমিটার, কিন্তু সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। কারন রাস্তা ভালো না আর রাস্তায় ৪ টা ফেরি।

যাই হোক, দুপুরের দিকে আমরা কুয়াকাটা পৌছালাম। বাস আমাদের হোটেলের সামনেই নামিয়ে দিলো। আমরা পর্যটনের রিসোর্টে উঠলাম। ঢাকা থেকেই বুকিং দিয়ে এসেছিলাম।

রুমে চেক-ইন করে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। বাইরে বের হয়ে রোদের তীব্রতা দেখে হোটেলেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। বিকেলে বের হয়ে সমুদ্র তীরে গেলাম।

সমুদ্র তীরে কিছুক্ষণ থেকে একটা রিক্সা ভ্যান ঠিক করলাম। ভ্যান আমাদের পাশেই একটা বাগানের মত জায়গায় নিয়ে যাবে এবং পরে সন্ধ্যায় সূর্য্যাস্ত দেখিয়ে আবার হোটেলে পৌছে দিবে। আমাদের ভ্যান ড্রাইভারের নাম ইউনুস (যদিও সে বলছিল উনুস)।

ইউনুস সাহেব আমাদের বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরিয়ে মুল বিচ এরিয়া থেকে একটু দূরে একটা জায়গায় এনে বললেন এইখান থেকে সূর্য্যাস্ত সব চেয়ে ভালো দেখা যাবে। আমরা আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই। একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম। তবে দেখতে দেখতে কিছুক্ষনের মধ্যে জায়গাটি ভরে গেলো। আসলেই আমরা একটা সুন্দর সূর্য্যাস্ত উপোভোগ করলাম।

পরদিন সারা দিনের জন্য ইউনুস সাহেবকে বুকিং দিলাম। ভোরে সূর্যোদোয় দেখব, তার পড়ে নাস্তা করে বাকি এলাকাগুলো দেখবো, এই প্লান।

ভোরবেলা ইউনুস এসে আমাদের হোটেল থেকে মিয়ে গেলো। আমরা ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি করায়, সূর্যোদোয় ভালোভাবে দেখতে পারিনি। এর পর নাস্তা করে গেলাম কুয়াকাটার কুয়া দেখতে। পাশেই একটা ছোট বৌদ্ধ বিহার। সেখান থেকে আমরা আবার বিচ এলাকায় গিয়ে একটা স্পীডবোট ভাড়া করে গেলাম পাশের সুন্দরবন এলাকায়।

সুন্দরবনের হালকা অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা আবার ফিরে এলাম কুয়াকাটায়। এরপর আরেকটা ভ্যান নিয়ে গেলাম পাশের এলাকায়। এলাকাটির নাম মিশ্রীপাড়া। এখানে একটি বড় বৌদ্ধ মুর্তি আছে। সেখান থেকে আসার পথে তরমুজ খেত থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে আসলাম। আবার তাল গাছ থেকে রস পাড়িয়ে খেলাম। খুব চমৎকার একটা সময় কাটলো।

কুয়াকাটায় ফিরে এসে আবার গেলাম শুটকি পল্লীতে। সেখানে দেখলাম হাঙর শিকারীদের হাঙর কেনা বেচা। বেশ কিছুক্ষণ বিচে কাটিয়ে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। পরদিন সকালে আমরা আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।